তথ্য সংগ্রহ মির্জা কায়সার ফেসবুক পোস্ট থেকে:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
মদন পৌরসভার সকল ছাত্র ও যুবক ভাই- বোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আসেন,আমরা মদন পৌরসভার আসল ও সত্য ঘঠনা জানার চেষ্টা করি*********?
এই মদন পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন শফিকুল ইসলাম লিটন ভাই। উনি যখন মেয়র হন তখন পৌরসভার নির্দিষ্ট কোন অফিস ছিল না। তখন পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হতো জাহাঙ্গীর পুর সেন্টারে অবস্থিত ডাকবাংলো থেকে।লিটন ভাই যখন পৌর মেয়র ঠিক তখনি সরকার কর্তৃক আদেশ হয় মদন পৌরসভার জন্য একটি নির্দিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। সরকারি নিয়মানুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণ করার জন্য জমি দিতে হয় ব্যক্তিগত দান করা জমি। এমতাবস্থায় লিটন ভাই যেহেতু মেয়র ছিলেন স্বাভাবিক ভাবেই উনি চাইবেন পৌর ভবনটি নদীর পূর্ব পাড়ে হয়।এমতাবস্থায় ফচিকা গ্রামের ভিরু বাবু নামের এক ভদ্রলোকের কাছ থেকে জায়গা নিলেন পৌরসভার ভবন নির্মাণ করার জন্য আর সেই জায়গাটি হলো ইমদাদ পুর গ্রামের ব্রিজের পার্শে। লিটন ভাই যেহেতু মেয়র, স্বাভাবিকভাবেই উনি তখন সরকারের কাছ থেকে মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন নিয়ে আসেন ইমদাদ পুর গ্রামে পৌরসভার ভবন নির্মাণ করার জন্য। এর কিছুদিন পর সরকারিভাবে পৌর ভবনটি নির্মাণ করার জন্য টেন্ডার হয় আর সেই টেন্ডারের কাজ পায় নেত্রকোনার একজন ঠিকাদার। এমতাবস্থায় নদীর পশ্চিম পাড়ের শিক্ষিত ছাত্র সমাজ,যুব সমাজ একটু বিবেক দিয়ে ভাবুন তো পৌর ভবনটি নদীর পূর্বপাড়ে হলে আমাদের পশ্চিম পাড়ের মানুষদের জন্য কতটুকু ভালো হতো?!আধুনিক যুগে একটা পৌরসভা সকল মানুষের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ,তাই না? জন্ম, মৃত্যু থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে আমাদের পৌরসভায় যেতে হয়। তখনকার সময় আমিও আপনাদের মতো একজন যুবক ছিলাম,তাই স্বাভাবিক ভাবেই আমিও মানতে পারিনি ইমদাদ পুর গ্রামে পৌর ভবনটি চলে যাক।নিজের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে চিন্তা করতে শুরু করি,কিছু একটা করতে হবে। যে ভাবেই হোক পৌরসভার ভবনটি নদীর পশ্চিম পাড়ে আনতে হবে। ঠিক এই সময় আমার বিশ্যস্ত পীর-ভাই,সাবেক ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থনাত বৈশ্য সজল আমাকে বললো,আমার কাছে একটা কাগজ আছে, তুমি এই কাগজটা একটু দেখো। আমি তার কাছ থেকে কাগজটা নিয়ে দুই দিন ঠিক মত দেখলাম। এক পর্যায়ে কাগজটায় একটা ভুল দেখতে পেলাম। সাথে সাথে আমি সেই কাগজ নিয়ে AC ল্যান্ড অফিসে গিয়ে কথা বললাম এবং UNO সাহেবের সাথে কথা বললাম, উনারা দুজনেই আমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। আমি সজলকে সাথে নিয়ে নেত্রকোনা গেলাম উকিলের পরামর্শ নেয়ার জন্য। উকিল সাহেব মামলা করার পরামর্শ দিলেন,আমি মির্জা আকিকুল ইসলাম কায়সার ও প্রার্থনাত বৈশ্য সজল বাদী হয়ে নিম্ন-আদালতে লিটন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলাম। যেহেতু পৌর ভবনের টেন্ডার হয়ে গেছে তাই সর্ব প্রথম এই টেন্ডারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করালাম। সঙ্গে সঙ্গে ইমদাদ পুর পৌর ভবনের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল। শুরু হলো আমার ও সজলের আইনি লড়াই লিটন ভাইয়ের বিরুদ্ধে (মানে পৌর-ভবন কে আমাদের পশ্চিমপাড়ে স্থাপনের জন্য)।নিম্ন- আদালতের রায় আমাদের পক্ষে হলো।লিটন ভাই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলো।সেই আপিলের রায় ঘুষ দিয়ে লিটন ভাইয়ের পক্ষে নিলো।আমি আর সজল ঢাকায় আসলাম। হাইকোর্ট গিয়ে লিটন ভাইয়ের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলাম,আল্লাহর রহমতে হাইকোর্টের রায় আমাদের পক্ষে হলো। ছাএ সমাজ ও যুব সমাজ একটু বিবেক দিয়ে চিন্তা করেন,সেই সময় এই যুদ্ধটা আমাদের মত দুই জন যুবকের জন্য কত কঠিন ছিল? সেই সময় আমাকে ও সজলকে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে চেয়েছিল লিটন ভাই,আমরা যেন মামলা না করি সেই জন্য। ঘুষ দিয়ে যখন রাজি করাতে পারে নাই তখন আমাকে ও সজলকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া শুরু করলো। পৌরসভার ছাত্র ও যুবক ভাই বোনেরা আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখলাম,সেই সময় আমি ও সজল বাদী হয়ে মামলা করে নিজেদের জীবন বাজি রেখে নিজ পকেটের ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে এই পৌর ভবনটি ইমদাদপুর থেকে জাহাঙ্গীর পুর আনলাম সারাজীবনের জন্য।সেটা কি আমাদের ভুল বা অপরাধ ছিলো? এর পরেও আমার ও সজলের উপর অনেক ঝামেলা, ভয়ভীতি, হুমকি আসতেছিল যা আমরা সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। নদীর পশ্চিমপাড়ে পৌর ভবনটি আসুক সেইটা তখন অনেকেই চায়নি।সেই ব্যাপারে আমি আপনাদের বিস্তারিত আজকে আর নাইবা বলি।ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজ আপনারা একটু বিবেক দিয়ে বিবেচনা করুন তো বিষয় টা কতটুকু কঠিন ও ঝুকিপূর্ণ ছিল? আর সেই কঠিন ও ঝুকিপূর্ণ কাজটা তখন আমি ও সজল বৈশ্য করেছিলাম জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে শুধু নিজের দায়বদ্ধতা থেকে। আপনাদের বর্তমান বয়স এখন যাদের ৩০/৪০ বছর তারা হয়তো বা অনেকেই আজ থেকে ২০ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই সত্য ঘঠনা বা পৌর ভবন স্থাপনের ইতিহাস জানেন না। তাই আপনাদেরকে এই আসল সত্য ঘঠনা জানানোর জন্য আমি এই ফেইসবুক পোস্ট দিলাম। আপনাদেরকে বিস্তারিত খুলে বলার জন্য আমার লিখা একটু দীর্ঘ হয়ে গেছে সেই জন্য আমি দুঃখিত। আশাকরি এই ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজ আপনারা যারা এই দেশটাকে নতুন ভাবে গড়তে চান,দেখতে চান তারা অবশ্যই এই অবহেলিত মদন পৌরসভার দিকে সচেতন দৃষ্টি রাখবেন।আর আমাকে পৌরসভা পশ্চিমপাড়ে স্থাপনের জন্য এবং মামলা জয় লাভ করতে হিন্দু-মুসলিম অনেক পরিচিত জন-ই সহযোগিতা করেছেন,যেখানে সকলের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি বলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
পরিশেষে আমি মদন পৌরসভার ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজের প্রতি আবেদন রাখবো,আপনারা এই দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ,আপনাদের হাত ধরেই এই দেশ, এবং সমাজ পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হউক। আপনারা এই অবহেলিত মদন পৌরসভাটাকে নিজের মত করে তৈরি করুন, আপনাদের হাতেই এই গুরু দায়িত্ব। আপনারা দেশ ও জাতির বিবেক,আপনাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী মদন পৌরসভা কেমন হবে।
মনে রাখবেন, সমাজ ও দেশ পরিবর্তনের দায়িত্ব আপনার হাতেই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন